দুই বাগানের মালিক
সূরা আল-কাহফের গল্প। ছবি আর বাংলা কণ্ঠে সাজানো ছোটদের গল্প। গল্পের আসরে বিনামূল্যে পড়ুন ও শুনুন।
ছবি আর অডিওসহ গল্প দেখতে ব্রাউজারে JavaScript চালু করো।
দুই বাগানের মালিক
দুটি সুন্দর বাগান। আঙুরের লতায় থোকায় থোকায় আঙুর। চারপাশে খেজুরগাছ, আর মাঝের জমিতে ফসল।
বাগান দুটির মালিক ছিল এক ব্যক্তি। আল্লাহ তাকে এই সুন্দর বাগান দুটি দিয়েছিলেন।
বাগান দুটির মাঝ দিয়ে বয়ে যেত একটি নদী।
দুই বাগানেই প্রচুর ফল ধরত। ফলনে কোনো কমতি হতো না।
আল্লাহ লোকটিকে কত কিছুই না দিয়েছিলেন!
কিন্তু নিজের ধনসম্পদ নিয়ে লোকটি অহংকার করত।
একদিন কথা বলতে বলতে সে তার সঙ্গীকে বলল, “তোমার চেয়ে আমার সম্পদ বেশি। আমার লোকবলও বেশি!”
নিজের বাগানে ঢুকে লোকটি চারদিকে তাকাল।
সে বলল, “আমার মনে হয় না, এই বাগান কখনো ধ্বংস হবে!”
সে মনে করেছিল, তার এত সম্পদ সব সময় এমনই থাকবে।
লোকটি কিয়ামতের দিন নিয়েও সন্দেহ করল—যেদিন সবাইকে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে।
সে বলল, “আমার মনে হয় না, সেই দিন আসবে। আর আমার রবের কাছে ফিরে গেলেও নিশ্চয়ই এর চেয়ে ভালো কিছু পাব!”
তার সঙ্গী আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখত।
সে বলল, “যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, তুমি কি তাঁকেই অস্বীকার করছ?”
তারপর বলল, “আল্লাহই আমার রব। আমি তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করি না। আমি শুধু তাঁরই ইবাদত করি।”
সঙ্গী আরও বলল, “বাগানে ঢুকে তোমার বলা উচিত ছিল—
‘মাশাআল্লাহ, লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’
অর্থাৎ, আল্লাহ যা চেয়েছেন, তা-ই হয়েছে। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই।”
“তুমি দেখছ, তোমার চেয়ে আমার ধনসম্পদ ও সন্তান কম,” সঙ্গী বলল।
“কিন্তু হয়তো আমার রব আমাকে তোমার বাগানের চেয়েও ভালো কিছু দেবেন।”
তার সম্পদ কম ছিল, কিন্তু আল্লাহর ওপর ভরসা ছিল।
সঙ্গী তাকে সতর্ক করল, “আকাশ থেকে বিপদ এসে তোমার বাগান ধ্বংস করে দিতে পারে। তখন পড়ে থাকবে শুধু অনুর্বর মাটি।
অথবা বাগানের পানি মাটির এত গভীরে চলে যেতে পারে যে, তুমি আর তা খুঁজে পাবে না।”
একসময় সেই বাগানের চিত্র বদলে গেল। লোকটির ফল-ফসল ধ্বংস হয়ে গেল।
আঙুরের মাচাগুলো ভেঙে পড়ল। সেগুলোর ওপর লুটিয়ে রইল লতাগুলো।
যে বাগান কখনো ধ্বংস হবে না বলে সে ভেবেছিল, সেটিই ধ্বংস হয়ে গেল।
বাগানের পেছনে কত সম্পদ খরচ করেছিল সে!
সেই ধ্বংসস্তূপ দেখে লোকটি দুঃখে দুই হাত মোচড়াতে লাগল।
আফসোস করে বলল, “হায়! আমি যদি আমার রবের সঙ্গে কাউকে শরিক না করতাম!”
যে লোকবল নিয়ে সে এত গর্ব করত, তা তাকে আল্লাহর ফয়সালা থেকে রক্ষা করতে পারল না।
সে নিজেও নিজেকে বাঁচাতে পারল না।
প্রকৃত সাহায্য ও রক্ষা করার ক্ষমতা আল্লাহরই। তিনিই সবচেয়ে ভালো পুরস্কার ও পরিণতি দেন।
আমাদের যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর দেওয়া।
তাই আমরা কৃতজ্ঞ থাকব, বলব “আলহামদুলিল্লাহ”। নিজের সম্পদ নিয়ে অহংকার করব না, কাউকে ছোট করে দেখব না।
আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা রাখব, শুধু তাঁরই ইবাদত করব এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করব না।